করোনার সংক্রমণ কমলো রংপুরে

রংপুরে করোনার সংক্রমণ কমছে। সেই সঙ্গে দুটি হাসপাতালে করোনা রোগীর সংখ্যাও কমছে। গত সপ্তাহে জেলায় ২৬২ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অথচ দুই সপ্তাহ আগেও প্রতিদিন ১৫০ থেকে ২৮০ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়।

একই সঙ্গে এখন যাঁরা নতুন করে করোনায় সংক্রমিত হচ্ছেন, তাঁদের অধিকাংশই বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে শ্বাসকষ্টজনিত বয়স্ক রোগীদের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রবণতা বেশি বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন হিরম্ব কুমার রায়।

রংপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে ১০০ শয্যার মধ্যে ১০ দিন আগেও প্রতিদিন ৭০ থেকে ৯৬ জন করোনা রোগী ভর্তি ছিল, সেখানে শুক্রবার রোগী ভর্তি রয়েছে ৪৮ জন।

একই সঙ্গে আইসিইউর চাহিদা কমে আসছে বলে জানান কোভিড-১৯ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুরুন নবী।

রংপুর জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১৪ থেকে ২০ আগস্ট পর্যন্ত এক সপ্তাহে রংপুর জেলায় সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা মাত্র ২৬২।

প্রতিদিন গড়ে ৩৭ জন রোগী ভর্তি ছিল। অথচ ১০ দিন আগেও এ জেলায় এক দিনে সর্বোচ্চ সংক্রমিত রোগী ছিল ২৮০।

জানা যায়, শুক্রবার করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য জেলার দুটি হাসপাতালের ১৭১ শয্যার মধ্যে রোগী ভর্তি ৮৩ জন। এর মধ্যে করোনা ডেডিকেটেড ১০০ শয্যায় হাসপাতালে ৪৮ জন ও ৭১ শয্যার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩৫ জন রোগী ভর্তি আছে।

করোনায় সংক্রমিত রোগীদের ঝুঁকি কম বলে অধিকাংশই নিজ নিজ বাড়িতে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

গত এক সপ্তাহে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন—এমন কয়েকজন রোগীর স্বজনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তাঁদের একজন শহরের কেরানীপাড়ার বাসিন্দা স্বজন সরোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমার বাবা করোনা পজিটিভ। কিন্তু শ্বাসকষ্ট নেই। জ্বর থাকলেও তা নিয়ন্ত্রণে। এ কারণে চিকিৎসকের পরামর্শে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন।’

রংপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ নূরুন্নবী লাইজু প্রথম আলোকে বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কোনো রোগীরই তেমন শ্বাসকষ্ট না থাকায় হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার প্রয়োজন হচ্ছে না।

এটি একটি ভালো দিক। যেখানে ১০ দিন আগেও রোগী ছিল ৬০ জনের বেশি। আর অক্সিজেন পেতে হাই ফ্লো নাজাল ক্যানুলার প্রয়োজন ছিল কয়েকজন রোগীর।

কিন্তু এখন তা আর লাগছে না। অক্সিজেনের প্রয়োজন হলে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সরবরাহ দিয়েই চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

রংপুর করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক নুরুন নবী প্রথম আলোকে জানান, দুই সপ্তাহ আগেও যে রোগীর চাপ ছিল, তা গত এক সপ্তাহ থেকে অনেক কমতে শুরু করেছে।

১০০ শয্যার মধ্যে আজ রোগী ভর্তি রয়েছে ৪৮ জন। এখানে মাত্র ৮টি আইসিইউ শয্যা। এক সপ্তাহ আগেও আইসিইউর চাহিদা ছিল ১৮ থেকে ২০ জনের। কিন্তু সেখানে আইসিইউ রোগীর চাপও কমে গেছে।

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *