Home / প্রচ্ছদ / মৃত্যু ঝুঁকি মোটর সাইকেল খেলার মুল আকর্ষণ

মৃত্যু ঝুঁকি মোটর সাইকেল খেলার মুল আকর্ষণ

সাইফুল ইসলাম, রংপুর : কথা বর্তায় অত্যান্ত সাধারণ মোঃ সুলতান মাহমুদ। বয়স ৪৬ বছর। দেখে তেমন সাহসী মনে হয় না। তবে তাঁর খেলা দেখার পর মানতেই হলো সুলতান মাহমুদ সাহসী নন, বরং দুঃসাহসী। তার কাজ মোটরসাইকেলের খেলা দেখানো। প্রাণ হাতে করে মৃত্যুকূপে ঘণ্টায় ৭০ কিলোমিটার বেগে মোটরসাইকেল চালান। চলন্ত মোটরসাইকেলে কখনো শুয়ে পড়েন, দুই হাত মেলে দাঁড়িয়ে যান, আবার কখনো বা শুধু দুই পায়ে নিয়ন্ত্রণ নেন। গা ছমছম করা সুলতানের এমন কসরত দেখে আনন্দ পান কূপের চারপাশের উঁচু জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকা দর্শক।
সার্কাস বা প্রদর্শনীর এই খেলা ‘মৃত্যুকূপ’ নামে পরিচিত। এটি আসলে গাছের গুঁড়ি, কাঠের পাটাতন, বাঁশ ও লোহার আংটা দিয়ে তৈরি গোলাকার বিশেষ এক খাঁচা। এর ভেতরে কাঠের পাটাতন মাটি থেকে ২০-২৫ ফুট ওপরে উঠে গেছে। কূপের জমিন থেকে এই দেয়াল বেয়ে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল বা গাড়ি চালিয়ে ওপরের দিকে উঠতে হয়।
ঈদের ৪র্থ দিনে রংপুরের অন্যতম বিনোদন কেন্দ্র আনন্দ নগরে সুলতান মাহমুদ তার মোটরসাইকেল খেলা প্রদর্শনীতে দর্ষকদের মনোমুগ্ধ করে। রংপুর ল কলেজের ছাত্র ছাত্রলীগ নেতা মনিরুল ইসলাম মনির (আশরাফুল) খেলা দেখে জানান, ঈদের আনন্দ পরিপূর্ণ হলো মৃত্যুকূপ মোটরসাইকেল খেলা দেখে।
মৃত্যুকূপ মঞ্চে কথা হয় মো. সুলতানের সঙ্গে। সুলতান শখের বসেই শুরু করেন মোটরসাইকেলের খেলা বা স্টান্ট দেখানো। তবে এখন এটিই তাঁর পেশা। বছরে খেলা ভালো হলে ৫ লক্ষ্য টাকা উপার্জন হয়। এ ছাড়া তার বাবার প্রচুর কৃষি জমি থাকায় অবস্বরে কৃষি কাজে সময় দেন সুলতান। দুয়ে মিলে সংসার ভালোই চালান তিনি। সুলতানের তিন ছেলে, বড় ছেলে মাসুদ রানা বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) লেখা পড়া করছে। মেঝো ছেলে মোস্তাকিম দিনাজপুর সরকারী পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট এ পড়াশুনা করছে। ছোট ছেলে স্বপ্ন বাবু বয়স মাত্র পাঁচ। মা বাবা জিবিত আছেন তাদের দোয়া আর্শিবাদ সুলতান মাহমুদের বড় সহায়ক।
কীভাবে জড়ালেন মৃত্যুকূপে? সুলতান সে গল্পই বলছিলেন। ২০০২ সালে সুলতান দিনাজপুর জেলার স্বপ্নপূরিতে খেলা দেখানো শুরু করেন। এর আগে শুরুতে খেলা দেখে তিনি নিজেই চর্চা শুরু করেন। দিনে দিনে দক্ষ হয়ে ওঠেন। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে স্টেজে শো দেখানো শুরু করেন। সুলতান জানান, ‘প্রদর্শনী চলার সময় অনেক দর্শক আমার খেলা দেখে খুশি হয়ে ৫০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত উপহারও দেন।’ বর্তমানে তিনি রংপুরের আনন্দনগর বিনোদন কেন্দ্র স্থায়ী মৃত্যুকূপ তৈরী করে খেলা দেখাচ্ছেন। তার দলে সহযোগী ৫ জন এবং খেলোয়ার তিনি সহ ২ জন। অপরজন পালিত মেয়ে হিসেবে তিনি খেলা শিখিয়ে রাফিয়াকে দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলেন। রাফিয়া এখন স্টেজে খেলা দেখিয়ে দর্ষকদের অনেক অনেক টাকা উপহার পান। তার দলের সহযোগীরা হলেন, শাহাব উদ্দিন, জয়নুদ্দিন, প্রদিব বাবু, সোহেল রানা এবং নয়ন বাবু।
বিপজ্জনক খেলা দেখাতে গিয়ে বহুবার দুর্ঘটনায় পড়েছিলেন। বর্তমানে তিনি যে সুস্থ্য এটা আল্লাহর দান বলে তিনি জানান।
আনন্দ নগরের ম্যানেজার বকুল ও সহকারী ম্যানেজার গোলাম মোস্তফা জানান, আনন্দ নগরে সুলতান মাহমুদের মৃত্যুকূপ মোটর সাইকেল খেলায় দর্শকরা বেশ খুশি। আমরাও আনন্দিত। তবে আমাদের এখানে অনেক রাইডস আছে যেগুলো ভ্রমন পিপাশু মানুষদের আনন্দদিতে পরিপূর্ণ।

তথ্য সূত্রঃ খোলা কাগজ, 26/08/2018

About rangpur24news

Check Also

রংপুরে সিরোটসি ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

রংপুর অফিস: আসন্ন ঈদুল আযহার আগে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবীতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত সিরোটসি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *