Home / প্রচ্ছদ / রংপুরে সিরোটসি ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

রংপুরে সিরোটসি ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মানববন্ধন

রংপুর অফিস: আসন্ন ঈদুল আযহার আগে বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবীতে শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত সিরোটসি ট্রাস্টের বৃহত্তর রংপুরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেছে।

রোববার রংপুর প্রেসক্লাব চত্ত¡রে সিরোটসি ট্রাস্টের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধন শেষে প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন, নির্বাহী পরিচালক মিস জেবুন্নাহার ২০১০ সালে চাকুরীতে যোগদান করে স্বেচ্ছাচারিতা ও অনিয়ম শুরু করেন। বিভিন্ন ব্রাঞ্চের মাঠ পর্যায়ে আয়ের সিংহ ভাগ টাকা প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার কারণে বিপাকে পড়ে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। বিশেষ করে রংপুর, দিনাজপুর, গাইবান্ধা ও নীলফামালী জেলার ১০টি ব্রাঞ্চের ২৪ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী ৪ থেকে ২৪ মাস ধরে বেতন-ভাতা না পেয়ে তারা অর্ধাহারে-অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টাকার অভাবে তাদের পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা, সন্তানদের লেখাপড়া, ভরন-পোষন চালাতে ব্যর্থ হচ্ছেন। তুলে দিতে পারছেন না মুখে আহার। এমনকি ঈদসহ জাতীয় উৎসবেও পরিবারের সদস্যদের মুখে হাসি ফুটছে না। তাদের এ সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানালেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় তারা চোখে মুখে অন্ধকার দেখছেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আব্দুস সামাদ। সাংবাদিকদের জানান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের আওতায় পরিচালিত সিরোটসি ট্রাস্ট দুস্থ মহিলাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে সহায়ক একটি স্ব-শাসিত প্রতিষ্ঠান ১৯৮৬ সাল থেকে পরিচালিত হয়ে আসছে। নির্বাহী পরিচালক জেবুন্নাহার নিয়ম-নীতিকে উপেক্ষা করে কাউকে তোয়াক্কা না করে এক নায়কতন্ত্র কায়েমের মাধ্যমে জলবল নিয়োগে তার পছন্দের প্রার্থী নিচ্ছেন। এছাড়া সারাদেশের কার্যালয়ে মনিটরিং,সুপারভিশন করছেন না। এ প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে মনোযোগি না হলেও নিজ উন্নয়নে তিনি রয়েছেন ব্যস্ত। তার যোগদারে পূর্বে জনল ১১৫ জন থাকলেও তার স্বেচ্ছাচারিতার কারণে বর্তমানে রয়েছে ৪৯ জন। যারা রয়েছেন তাদের উপর কারণে অকারণে অশোভনীয় আচারণ ও নির্যাতন করা হয়। ট্রাস্টি বোর্ডে তিনি কখনো সঠিক তথ্য তুলে ধরেন না। ৬ বছর যাবত শাখা ব্যবস্থাপকদের ঋণ আদায়ের দায়িত্ব প্রদান, মনিটরিং ও সুপারভিশন না করার কারণে ঋণ কার্যক্রম ব্যহত হয়ে প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঠিক মত বেতন পাচ্ছেন না। বাৎসরিক দুটি ইনক্রিমেন্ট বকেয়া রয়েছে। অথচ নির্বাহী পরিচালকের ইনক্রিমেন্ট হালনাগাদ। নির্বাহী পরিচালক বিভিন্ন জেলার ব্রাঞ্চের মাঠ পর্যায়ে আয়ের সিংহভাগ টাকা প্রধান কার্যালয়ে নিয়ে যাচ্ছে। অথচ পূর্বের নির্বাহী পরিচালক মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন, ঈদ বোনাস নিশ্চিত করার পর প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ঈদ বোনাস প্রদান করতেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত মশিউর রহমান রাজ্জাক, আয়শা, ফাতেমাসহ অন্যান্যরা বলেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী যেখানে প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে চাকুরী ও পেটে ভাত নিশ্চিত করার প্রতিশ্রæতি দিয়েছে সেখানে তাদের এ প্রতিষ্ঠানের অভিভাবক নির্বাহী পরিচালক প্রধানমন্ত্রীর এ স্বপ্নে বাধার সৃষ্টি করছে। অবিলম্বে এ বিষয়ে তদন্ত স্বাপেক্ষে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উপস্থিতিরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সহ প্রধানমন্ত্রীর নিকট জোর দাবী জানান।

About rangpur24news

Check Also

কুড়িগ্রামে স্কুলের ছাদ থেকে পড়ে ছাত্র নিহত

নাহিদ, ভূরুঙ্গামারী থেকে: কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ধামের হাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অ-রক্ষিত ছাত্র থেকে পড়ে ৪র্থ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *